ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম টি–টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের হার নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল দলের মিডল অর্ডার নিয়ে। সংবাদ সম্মেলনে সেই প্রশ্নের মুখোমুখি হন পেসার তানজিম হাসান সাকিব। জবাবে মুচকি হেসে তিনি বলেন,
“উত্তরটা আমার কাছে নেই।”
শেষ ওভারে ৩ ছক্কাসহ ২২ রান খরচ করলেও ব্যাট হাতে দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৩৩ রান করেছিলেন তানজিম। তবে তাঁর ব্যাটিং দক্ষতা থাকা সত্ত্বেও সুযোগটা এসেছিল মূলত টপ ও মিডল অর্ডারের ব্যর্থতায়—যা বাংলাদেশের টি–টোয়েন্টি দলের দীর্ঘদিনের সমস্যা।
এ বছর যদিও টি–টোয়েন্টিতে ভালো সময় কাটাচ্ছে বাংলাদেশ। টানা চারটি সিরিজ জয়ের পাশাপাশি বছরে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ জয়ের রেকর্ডও গড়েছে দলটি। কিন্তু ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের বিচারে মিডল অর্ডারের অবস্থা আশানুরূপ নয়।
২০২৫ সালে এখন পর্যন্ত মিডল অর্ডারের ব্যাটসম্যানদের গড় স্ট্রাইক রেট মাত্র ১১৯.৮৩, যা টেস্ট খেলুড়ে সব দেশের মধ্যে সর্বনিম্ন। পুরো বছরে এই ব্যাটিং ক্রম থেকে এসেছে মাত্র দুটি ফিফটি—একটি জাকের আলীর, অন্যটি তাওহিদ হৃদয়ের। ফিফটির দিক থেকে বাংলাদেশের নিচে আছে কেবল শ্রীলঙ্কা, যারা খেলেছে বাংলাদেশের অর্ধেকেরও কম ম্যাচ।
মিডল অর্ডারের এই দুরবস্থা নিয়ে তানজিম বললেন,
এটা আসলে ব্যাটসম্যানরা ভালোভাবে ব্যাখ্যা করতে পারবে। সত্যি বলতে এই উত্তরটা আমার কাছে নেই।
তবে তিনি স্বীকার করেন, ব্যাটারদের আরও দায়িত্বশীল হতে হবে,
মিডল অর্ডার নিয়ে আমি চিন্তিত। পাওয়ারপ্লের পর ফিল্ডাররা ছড়িয়ে পড়েছিল, তখন এক–দুই রান করে দলকে এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ ছিল। আমি মনে করি, ওদের আরও দায়িত্ব নিতে হবে।
অধিনায়ক লিটন দাসও ম্যাচ শেষে মিডল অর্ডারের ব্যর্থতায় হতাশা প্রকাশ করেন। পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে তিনি সরাসরি শামীম হোসেনকে সমালোচনা করেন। শেষ ১৩ ম্যাচে শামীম মাত্র ৬ বার দুই অঙ্কের ঘরে পৌঁছেছেন; এর মধ্যে তিনবার শূন্য ও দুবার আউট হয়েছেন ১ রানে। গতকালও জেসন হোল্ডারের বলে ৪ বলে ১ রান করে বোল্ড হয়ে যান তিনি।
বাংলাদেশের এখন বড় দুশ্চিন্তা পুরো মিডল অর্ডার নিয়েই। তাওহিদ হৃদয়, শামীম হোসেনরা কি পরের দুই ম্যাচে এই ব্যর্থতার ধারাবাহিকতা কাটিয়ে উঠতে পারবেন?
চট্টগ্রামেই আগামীকাল সিরিজের দ্বিতীয় টি–টোয়েন্টি, আর তৃতীয় ও শেষ ম্যাচটি হবে ৩১ অক্টোবর।
টিএইচএ/
