লক্ষ্মীপুরে অবৈধভাবে ভোটের সিল তৈরির ঘটনায় স্থানীয় একজন জামায়াত নেতার জড়িত থাকার তথ্য পেয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় জামায়াত নেতা সৌরভ হোসেন শরীফ ও ব্যবসায়ী সোহেল রানার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। ব্যবসায়ী সোহেল গ্রেপ্তার হলেও আত্মগোপনে আছেন জামায়াত নেতা শরীফ।
এ ঘটনার পর শরীফকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে জামায়াত।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সদর মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মনির হোসেন জামায়াত নেতা শরীফের বিরুদ্ধে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মঙ্গলবার রাতেই এ ঘটনায় মামলা হয়।
অভিযুক্ত শরীফ লক্ষ্মীপুর পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ড জামায়াতের সেক্রেটারি ও দক্ষিণ বাঞ্চানগর এলাকার মো. শাজাহানের ছেলে। তিনি হাসপাতাল রোডের ‘আধুনিক অফসেট অ্যান্ড ডিজিটাল সাইন’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের মালিক। নির্বাচনে জাল ভোট দেওয়ার জন্য তিনি ব্যবসায়ী সোহেলকে দিয়ে সিলগুলো বানিয়েছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এ ঘটনার পরপরই মঙ্গলবার রাতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন লক্ষ্মীপুর-৩ (সদর) আসনের বিএনপির প্রার্থী ও দলটির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। তিনি অভিযোগ করেন, সিল তৈরির এ ঘটনায় জামায়াতের সংশ্লিষ্টতা আছে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করেছেন একই আসনের জামায়াতের প্রার্থী ও দলটির ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি রেজাউল করিম। তিনি দাবি করেন, আটক সোহেল জামায়াতের কেউ নন। শরীফকে দল থেকে বহিষ্কার করার কথা জানান তিনি।
এ বিষয়ে লক্ষ্মীপুর-২ আসনের জামায়াত প্রার্থী এসইউএম রুহুল আমিন ভূঁইয়া বলেন, “সিলগুলো জব্দের পরপরই শরীফকে আমরা দল থেকে বহিষ্কার করেছি। দ্রুত সময়ের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে এ তথ্য সবাইকে জানানো হবে।”
এ ঘটনায় হওয়া মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, জামায়াত নেতা শরীফ গত ৩০ জানুয়ারি সোহেলের কাছে পাঁচটি নির্বাচনী সিলের অর্ডার দেন। এ-সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা তিনি ভয়েস মেসেজের মাধ্যমে সোহেলকে হোয়াটসঅ্যাপে পাঠান।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মনির হোসেন জানান, এরই মধ্যে সোহেলকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে এখনো রিমান্ড চাওয়া হয়নি। অন্যদিকে পলাতক শরীফকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ওয়াহিদ পারভেজ বলেন, “এ ঘটনায় আর কারও সম্পৃক্ততা আছে কি না, খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”
এমএআর/
