‘ইনসাফ–আজাদী’ শব্দ নিয়ে বিতর্ক, যা বললেন শরীফ মুহাম্মদ

by naymurbd1999@gmail.com

শাব্বির আহমাদ খান

ফেব্রুয়ারি—বাংলা ভাষার আবেগঘন মাস। বাংলাদেশের ইতিহাসে এই মাসটি জড়িয়ে আছে ভাষা আন্দোলনের চেতনায়। এমন সময়ে বিদেশি শব্দ ব্যবহারের প্রসঙ্গে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল মাহমুদ টুকু।

বিজ্ঞাপন
banner

এই বিষয়ে আলেম ও সাংবাদিক মাওলানা শরীফ মুহাম্মদ ৩৬ নিউজকে বলেন, “ইনকিলাব, ইনসাফ ও আজাদী শব্দগুলো যদি মানুষ আপন করে নেয়, গ্রহণ করে নেয়, তাহলে যারা আপত্তি করছেন তাদের সমস্যা কোথায়? ভাষা তো ধারণ করে, এটা স্বাভাবিক একটি প্রক্রিয়া। যারা যুক্তি দিচ্ছে, তারা নিজেই সেই যুক্তিতে ধরা পড়ছে।”

ভাষার নিজস্ব গ্রহণ-বর্জনের ক্ষমতার ওপর আলোকপাত করে তিনি বলেন, ‘ভাষার নিজস্ব হজম করার ক্ষমতা বা প্রক্রিয়া আছে। কোন শব্দটা নেবে, কোনটা নেবে না—ভাষাই ঠিক করে। আমরা যদি জোর করে আরবি-উর্দু ভাষা চাপাই, তাহলে বাংলা ভাষা তা নেবে না—এটা ঠিক। কিন্তু কেন বলছেন, আমরা এটা মানতে পারি না? মানবেন কেন? বাংলাদেশের মানুষ যদি মেনে নেয়, তাহলে তারা না মানলে কী হলো!’

তিনি আরও যোগ করেন, ‘যদি আমরা চাপিয়ে দিই আর মানুষ না নেয়, তাহলে রাগ করার কারণ কী? বাংলাদেশের মানুষ শব্দগুলো উচ্চারণ করবে না। এটা তো একটি প্রক্রিয়া। কোনো আইন দ্বারা কেউ বলছে না, ‘এই শব্দগুলো ব্যবহার করতে হবে’। তাহলে তাদের না মানার প্রসঙ্গ কেন আসে, তাদের ব্লিডিং হবে কেন?’

দীর্ঘদিন ধরে দেশে হিন্দি সংস্কৃতির প্রভাবের কথাও তুলে ধরেন মাওলানা শরীফ মুহাম্মদ। তিনি বলেন, ‘যে জাতির মধ্যে ৫০ বছর যাবত হিন্দি গান, হিন্দি ফিল্ম ও হিন্দি সংস্কৃতি এতভাবে চলতে পারে, এতে তাদের ব্লিডিং হয় না। কিন্তু ভাষার কিছু শব্দ নিয়ে আপত্তি ওঠে।’

উপমহাদেশীয় ভাষার নৈকট্যের প্রসঙ্গও উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমাদের উপমহাদেশে ভাষার একটি নৈকট্য আছে। অনেক শব্দ আছে যা এক ভাষা থেকে অন্য ভাষায় এসেছে। যেমন ফায়সালা, আদলত—এগুলো বাংলার চেয়েও বেশি বাংলার মতো শোনায়, যদিও উর্দু, আরবি বা ফার্সি শব্দ। এগুলো গ্রহণে তাদের সমস্যা কী?’

শরীফ মুহাম্মদ প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে বলেনে, ‘বাংলাদেশ শব্দটা নেবে নাকি নেবে না—এর রেফারি কে? যদি আমরা চাপিয়ে দিই, আইন করি আর মানুষ না নেয়, তাহলে আইন করেও কাজ হবে না। আবার যদি মানুষ মেনে নেয়, তাহলে কেন মানবে না? কে বাধ্য করবে?’

এদিকে, ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া কয়েকজন ছাত্রনেতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে মন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিবাদ করেন। তারা নিজেদের ফেসবুক পোস্টে ‘ইনকিলাব’, ‘ইনসাফ’ ও ‘আজাদী’ শব্দ প্রয়োগ করেছেন এবং উল্লেখ করেছেন, ভাষা সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হয় এবং বিভিন্ন ভাষার শব্দ গ্রহণের মাধ্যমে বাংলা ভাষা সমৃদ্ধ হয়েছে।

এনআর/

এ জাতীয় আরো সংবাদ

প্রকাশক: আবু সায়েম খালেদ
পরিচালক: এইচ. এম. মুহিউদ্দিন খান
আসকান টাওয়ার, ৬ষ্ঠ তলা, ১৭৪ ধোলাইপাড়
যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪
ইমেইল: info@36news24.com
ফোন: 01401 400222