গাজীপুরের গাছা এলাকায় ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিএনপি কার্যালয় ও এক নেতার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। ক্ষতিগ্রস্তদের দাবি, কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ-এর নেতাকর্মীরা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত। ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে আওয়ামী লীগ নেতা শিবলুর নেতৃত্বে প্রায় ৭০–৮০ জনের একটি দল গাছা থানা বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মো. শাহীন মিয়ার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা চালায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হামলাকারীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে দোকানে ব্যাপক ভাঙচুর করে। পরে তারা পাশের বিএনপি কার্যালয়ে ঢুকে তাণ্ডব চালায়।
অভিযোগ রয়েছে, হামলার সময় দলীয় চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া এবং শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান-এর ছবি ভাঙচুর করা হয়। পাশাপাশি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে প্রায় ৭ লাখ টাকা নগদ অর্থ, একটি ৫৬ ইঞ্চি টেলিভিশন ও অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী লুট করা হয়েছে বলেও দাবি করা হয়।
স্থানীয়দের ভাষ্য, পোশাক কারখানার ঝুট ব্যবসা ও ইন্টারনেট সংযোগ বাণিজ্যের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। সেই বিরোধের জের ধরেই এ হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ভুক্তভোগী শাহীন মিয়া জানান, প্রয়োজনীয় লাইসেন্স ও অনুমোদন নিয়ে তিনি ইন্টারনেট ব্যবসা পরিচালনা করছিলেন। একটি প্রভাবশালী মহল ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিতে চাপ সৃষ্টি করছিল। তাদের দাবি না মানায় প্রথমে তার দোকানে হামলা করা হয়, পরে দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়। এ ঘটনায় তিনি গাছা থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহসহ বিভিন্ন আলামত জব্দ করা হয়েছে।
গাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান বলেন, “প্রাথমিকভাবে ব্যবসা সংক্রান্ত বিরোধের বিষয়টি সামনে এসেছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। নিরাপত্তার কারণে আশপাশের কয়েকটি দোকান সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে।
এমএআর/
