এমরান হোসেন (জামালপুর প্রতিনিধি): জামালপুর জেলা শহরের প্রধান সড়কগুলোতে দিন দিন বেড়েই চলেছে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার দাপট। যানাবাহনের মাত্রাতিরিক্ত বৃদ্ধি, নিয়ন্ত্রণহীন চলাচল এবং যত্রতত্র পার্কিংয়ের কারণে শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে প্রতিনিয়ত সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র যানজট। ট্রাফিক আইন না মানা এবং পর্যাপ্ত পার্কিং ব্যবস্থা না থাকায় সাধারণ পথচারী, শিক্ষার্থী ও ব্যবসায়ীরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকে থেকে অতিষ্ঠ হয়ে পড়লেও পৌর কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে যানজট নিরসনে তেমন কোনো কার্যকরী পদক্ষেপ নেই বলে অভিযোগ উঠেছে।
পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, শহরে চলাচলের জন্য লাইসেন্সধারী রিকশার সংখ্যা মাত্র ৪ হাজার ৩০০টি হলেও বাস্তবে লাইসেন্সবিহীন প্রায় ১৪ হাজার অটোরিকশা সড়কে চলাচল করছে। শহরের দুই পাশে গড়ে ওঠা মার্কেট, ব্যাংক, বীমা অফিস ও কাঁচাবাজারের মাঝ বরাবর চলে যাওয়া প্রধান সড়কটি এখন অটোরিকশার দখলে। বিশেষ করে নতুন বাইপাস মোড়, বাস টার্মিনাল, গেটপাড় রেল ক্রসিং, পিটিআই গেট, পাঁচরাস্তা মোড়, বকুলতলা, ফৌজদারি মোড় ও তমালতলাসহ বিভিন্ন পয়েন্টে যানজট এখন নিত্যদিনের ঘটনা। অটোরিকশাগুলোর হঠাৎ ব্রেক করা, যত্রতত্র ঘোরানো এবং বেপরোয়া গতির কারণে প্রতিনিয়ত ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। অভিযোগ রয়েছে, পৌরসভা থেকে নতুন লাইসেন্স বন্ধ থাকলেও পাশের ইউনিয়নগুলো থেকে প্রতিদিন শত শত অটোরিকশা শহরে ঢুকে পরিস্থিতি আরও নাজুক করে তুলছে।
যানজটের কারণে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন পথচারী ও শিক্ষার্থীরা। সাধারণ মানুষ ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, রাস্তা পার হওয়া এখন বড় ধরনের ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক ক্রেতা যানজটের ভয়ে বাজারে আসতে চান না, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যে। জামালপুর নাগরিক কমিটির সভাপতি জাহাঙ্গীর সেলিম জানান, অটোরিকশা চালকদের একটি বড় অংশের বৈধ লাইসেন্স বা প্রশিক্ষণ নেই। ট্রাফিক সিগন্যাল ও পথচারীর অধিকার সবই এখানে উপেক্ষিত হচ্ছে। দ্রুত এই খাতটিকে শৃঙ্খলায় আনা প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।
জামালপুর পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা হাফিজুর রহমান জানান, শহরের পাঁচটি পয়েন্টে লোক নিয়োগ করা হয়েছে যাতে লাইসেন্সবিহীন ইজিবাইক শহরে প্রবেশ করতে না পারে। অবৈধ রিকশা পাওয়া গেলে জরিমানা করা হচ্ছে। অন্যদিকে, জামালপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) ইয়াহিয়া আল মামুন বলেন, শহরের ট্রাফিক ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে ৬৫ জন পুলিশ সদস্য নিয়মিত দায়িত্ব পালন করছেন। ট্রাফিক ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলেও তিনি দাবি করেন।
টিএইচএ/
