দেশের পাঁচটি ইসলামি ব্যাংক একীভূতকরণ এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) দুই ভাগে বিভক্ত করার বিষয়ে সরকারের বর্তমান অবস্থান পরিষ্কার করেছেন নীতিনির্ধারকরা। শনিবার (২৫ এপ্রিল) সচিবালয়ে ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) সদস্যদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক প্রাক-বাজেট আলোচনা সভায় এসব তথ্য জানানো হয়। বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান জানান, পাঁচটি ইসলামি ব্যাংক একীভূত করার বিষয়টি নিয়ে সরকার এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি। এছাড়া দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা কলকারখানাগুলো পুনরায় চালু করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক খুব শিগগিরই একটি বিশেষ প্যাকেজ ঘোষণা করবে বলেও জানান তিনি।
একই সভায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী দেশের অর্থনৈতিক সংস্কার ও সুশাসনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, বিগত সময়ে দেশের অর্থনীতির নিয়ন্ত্রণ নির্দিষ্ট কিছু মানুষের হাতে সীমাবদ্ধ ছিল। ব্যাপক রাজনীতিকরণের ফলে ব্যাংক ও পুঁজিবাজার প্রায় শূন্য হয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে সরকার এখন অর্থনীতিকে সম্পূর্ণভাবে গণতান্ত্রায়ন করার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। এনবিআর সংস্কার প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী জানান, সংস্থাটিকে দুই ভাগে বিভক্ত করার নীতিগত পরিকল্পনা থাকলেও বিষয়টি বাস্তবায়নের আগে সরকার আরও অধিকতর পর্যালোচনা ও যাচাই-বাছাই করছে।
বৈঠকে দেশের সামষ্টিক অর্থনীতির চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলায় সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরা হয়। বিশেষ করে ব্যাংকিং খাতের অস্থিরতা দূর করতে এবং বড় ধরনের সংস্কার আনতেই ব্যাংক একীভূতকরণের বিষয়টি আলোচনায় এসেছিল। তবে গভর্নর মোস্তাকুর রহমানের বক্তব্যে এটি স্পষ্ট যে, এ বিষয়ে তাড়াহুড়ো না করে সার্বিক দিক বিবেচনা করেই চূড়ান্ত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। অন্যদিকে এনবিআর-এর প্রশাসনিক সক্ষমতা বাড়াতে এবং কর আদায় প্রক্রিয়াকে আরও গতিশীল করতেই একে দুই ভাগ করার প্রস্তাবনা নিয়ে কাজ করছে অর্থ মন্ত্রণালয়।
টিএইচএ/
