এমরান হোসেন (জামালপুর প্রতিনিধি): সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে মিল রেখে জামালপুরের তিন উপজেলার ২০ গ্রামে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হয়েছে।
আজ বুধবার সকাল আটটায় সরিষাবাড়ী পৌরসভার বলারদিয়ার মধ্যপাড়া মাস্টারবাড়ি জামে মসজিদ মাঠে এই উৎসবের প্রধান ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত ঈদের নামাজের জামাতে ইমামতি করেন স্থানীয় খতিব মাওলানা হাফেজ আব্দুল করিম।
স্থানীয় ও জনপ্রতিনিধি সূত্রে জানা গেছে, জেলার সরিষাবাড়ী, ইসলামপুর ও মাদারগঞ্জ উপজেলার মোট ২০টি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ প্রতি বছরের মতো এবারও সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে একদিন আগেই ঈদুল আজহার নামাজ আদায় ও কোরবানি সম্পন্ন করেছেন। এর মধ্যে সরিষাবাড়ী উপজেলার বলারদিয়ার, মূলবাড়ী, সাতপোয়া, সাঞ্চারপাড়, পঞ্চপীর, পাখাডুবি, বনগ্রাম, বালিয়া, বাউসী, হোসনাবাদ, পাটাবুগা, পুঠিয়াড়পাড় ও বগারপাড় গ্রামের মুসল্লিরা বলারদিয়ারের প্রধান জামাতে অংশ নেন। এছাড়া ইসলামপুর উপজেলার নোয়ারপাড়া ইউনিয়নের রামভদ্রা, সাপধরী ইউনিয়নের পশ্চিম মণ্ডলপাড়া এবং মাদারগঞ্জ উপজেলার কাজিয়ারবাড়ি গ্রামেও পৃথক পৃথক ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। ঈদের জামাত শেষে মুসল্লিরা দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনায় বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন।
গ্রমিবাসী ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বিগত ২১ বছর ধরে এই গ্রামগুলোর বাসিন্দারা মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর চাঁদ দেখার সময়ের সঙ্গে মিল রেখে পবিত্র ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা উদযাপন করে আসছেন। সেই ধারাবাহিকতায় এবারও তারা আজ ঈদের নামাজ আদায় শেষে পরস্পরের সঙ্গে কোলাকুলি করেন এবং মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় পশু কোরবানি দেন। তবে জেলার অবশিষ্ট অধিকাংশ এলাকায় দেশের আকাশে চাঁদ দেখার ওপর ভিত্তি করে আগামীকাল বৃহস্পতিবার ঈদুল আজহা উদযাপনের প্রস্তুতি চলছে।
বলারদিয়ার মধ্যপাড়া মাস্টারবাড়ি জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা হাফেজ আব্দুল করিম জানান, অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে ঈদের জামাত সম্পন্ন হয়েছে। দীর্ঘ ২১ বছর যাবত এই এলাকার একাংশের মানুষ বিশ্বস্ততার সঙ্গে সৌদি আরবের সময়ের সঙ্গে মিল রেখে রোজা ও ঈদ পালন করে আসছেন। আজ সকালের জামাতে বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নিয়েছেন এবং নামাজ শেষে সবাই নিজ নিজ বাড়িতে সুন্দরভাবে পশু কোরবানি সম্পন্ন করেছেন।
টিএইচএ/
