আফগানিস্তানে ইসলামি শাসন প্রতিষ্ঠার পর থেকেই পশ্চিমা বিশ্ব নানা অজুহাতে তালেবান সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করে চলেছে। এবার সেই ধারাবাহিকতায় আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) আফগানিস্তানের সুপ্রিম লিডার হেবাতুল্লাহ আখুন্দজাদা এবং প্রধান বিচারপতি আবদুল হাকিম হাক্কানির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে। অভিযোগ—আফগান নারীদের ওপর পরিকল্পিত নিপীড়ন এবং তথাকথিত ‘লিঙ্গভিত্তিক নিপীড়ন’। তালেবান সরকার এই অভিযোগকে পুরোপুরি ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।
এক বিবৃতিতে তালেবানের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ বলেন, “এই আদালতের কোনো ভিত্তি নেই। ইসলামি ইমারত আফগানিস্তান এই সংস্থাকে স্বীকৃতি দেয় না। এই ধরনের অভিযোগ আমাদের ইসলামী শাসনের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র।”
তিনি আরও বলেন, “আইসিসির অভিযোগ ইসলাম ও শরিয়াহর প্রতি বিদ্বেষমূলক। আফগানিস্তানে নারী ও সমাজের মর্যাদা রক্ষায় শরিয়াহভিত্তিক যেসব বিধান কার্যকর রয়েছে, তা আমাদের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক স্বাধীনতার অংশ।”
তালেবান সরকার মনে করে, এই গ্রেফতারি পরোয়ানা মূলত আফগানিস্তানের স্বাধীন নীতিকে বাধাগ্রস্ত করার প্রচেষ্টা। আফগানিস্তান বর্তমানে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ থেকে স্বনির্ভর ও স্থিতিশীল রাষ্ট্রে রূপান্তরের পথে। ইসলামি ইমারতের অধীনে শিক্ষা, প্রশাসন, নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচারব্যবস্থায় ব্যাপক সংস্কার চলছে। নারী, শিশু, পরিবার ও সমাজের সামগ্রিক কল্যাণে কাজ করছে তালেবান প্রশাসন। কিন্তু পশ্চিমা দুনিয়া সেই সুশাসন ও আত্মমর্যাদা সহ্য করতে পারছে না।
মুজাহিদ আরও বলেন, “যখন দখলদার ইসরায়েল গাজায় নারী-শিশুদের ওপর গণহত্যা চালাচ্ছে, তখন আইসিসি নিশ্চুপ। যখন আমেরিকা নিজের ইচ্ছামতো দেশে-দেশে হামলা চালায়, সরকার ফেলে দেয়, নিষেধাজ্ঞা চাপিয়ে দেয়—তখন মানবাধিকার সংস্থাগুলো নির্বাক থাকে।”
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই গ্রেফতারি পরোয়ানা পশ্চিমাদের দ্বিচারিতা ও মানবাধিকারের নামে দাদাগিরির নতুন নজির। তালেবান সরকার বারবার বলেছে—তাদের ইসলামি আইনের ভিত্তিতে পরিচালিত রাষ্ট্রব্যবস্থা বৈধ, স্বাধীন এবং আত্মনির্ভর। আন্তর্জাতিক চাপ ও নিষেধাজ্ঞা এই পথকে বন্ধ করতে পারবে না।
তালেবান বার্তা দিয়েছে, “আমরা যুদ্ধ থেকে উঠে এসেছি। এখন শান্তি, সুশাসন ও উন্নয়নের পথে আছি। যারা আবার আমাদের পরাধীন করতে চায়, তাদের ইতিহাসের ধুলায় হারিয়ে যেতে হবে।”
এনএ/
