নিজস্ব প্রতিবেদক:
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের প্রার্থী ওসমান হাদিকে হত্যার প্রতিবাদে চট্টগ্রামে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। বৃহস্পতিবার রাত প্রায় ১০:৪৫ থেকে ১১ টার দিকে বিক্ষোভকারীরা চট্টগ্রামের খুলশীতে ভারতীয় সহকারী হাইকমিশন কার্যালয়ের সামনে জড়ো হতে শুরু করে। এর আগে তারা ষোলোশহর ২ নম্বর গেট এলাকায় মিছিল ও সমাবেশ করে। বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের বাসায় ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ করে।
বিক্ষোভের এক পর্যায়ে উত্তেজিত জনতা ভারতীয় হাইকমিশন লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে এবং সীমানা প্রাচীরের ব্যারিকেড ভেঙে ফেলার চেষ্টা করে। এসময় পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
খুলশীর বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী নেতা মাহফুজ ইসলাম বলেন, “ওসমান হাদিকে হত্যা করা হয়েছে কারণ তিনি ভারতের আধিপত্যবাদ ও আওয়ামী ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে কথা বলেছিলেন। এই হত্যাকাণ্ড কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, এটি ভারতের মদদে পরিচালিত রাজনৈতিক দমন-পীড়নের অংশ।”
আরেক বিক্ষোভকারী ও ইনকিলাব মঞ্চের কর্মী সাদিয়া রহমান বলেন, “আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় টিকে থাকতে দেশকে ভারতের হাতে তুলে দিয়েছে। ওসমান হাদি ছিলেন সেই অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের কণ্ঠ। তাকে হত্যা করে প্রমাণ করা হয়েছে-ভিন্নমত এখানে নিরাপদ নয়।”
বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করেন, “আওয়ামী লীগের ছত্রচ্ছায়ায় বিরোধী রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের একের পর এক টার্গেট করা হচ্ছে। তারা দাবি করেন, এই হত্যাকাণ্ডের আন্তর্জাতিক যোগসূত্র রয়েছে এবং ভারতীয় স্বার্থ রক্ষার রাজনীতির বলি হয়েছেন ওসমান হাদি।”
এদিকে রাতের মধ্যেই চট্টগ্রামের দুই নম্বর গেটে সাবেক মন্ত্রী নওফেলের বাসার প্রাঙ্গণে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ওসমান হাদির অনুসারীরা ক্ষোভ ও শোকে বিক্ষুব্ধ হয়ে এ ঘটনা ঘটায়। যদিও তারা দাবি করেন, এটি ছিল স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিক্রিয়া, কোনো সংগঠিত হামলা নয়।
রাশেদ খান নামে একজন বলেন, “আমরা কোনো সহিংসতায় বিশ্বাস করি না। কিন্তু জনগণের ক্ষোভের দায় আওয়ামী লীগ এড়াতে পারে না। ওসমান হাদির রক্তের বিচার না হলে এই ক্ষোভ আরও বিস্তৃত হবে।”
ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী খুলশী ও আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে। তবে বিক্ষোভকারীরা স্পষ্ট জানিয়ে দেন হত্যার নিরপেক্ষ তদন্ত, ভারতীয় হস্তক্ষেপ বন্ধ এবং আওয়ামী লীগের বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।
পুলিশের সাথে সংঘর্ষে অন্তত ২ জন পুলিশ সদস্যসহ ৪ জন আহত হয়েছেন এবং তাদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ১২ জনকে আটক করেছে এবং তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)।
এমএআর/
