ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের সচিব আলী লারিজানি ও বাসিজ বাহিনীর প্রধানকে হত্যার কড়া প্রতিশোধ নিতে শুরু করেছে তেহরান।
বুধবার (১৮ মার্চ) দখলদার ইসরাইলি ভূখণ্ড লক্ষ্য করে দফায় দফায় ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ক্লাস্টার ওয়ারহেড বা গুচ্ছ বোমাযুক্ত মিসাইল নিক্ষেপ করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। ইরানি বাহিনীর এই নজিরবিহীন হামলায় ইসরাইলের রাজধানী তেল আবিবসহ বেশ কয়েকটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও ভবন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। ইসরাইলি সংবাদমাধ্যমগুলোর বরাতে জানা গেছে, উত্তর ও মধ্যাঞ্চলে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার পর পুরো ইসরাইলজুড়ে বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে এবং আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

ইসরাইলের মধ্যাঞ্চলীয় তেল আবিব জেলার গুরুত্বপূর্ণ শহর রামাত গানে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সেখানে বেশ কয়েকটি বহুতল ভবন ও সামরিক গুরুত্বসম্পন্ন স্থাপনা ধসে পড়ার খবর পাওয়া গেছে। আইআরজিসি জানিয়েছে, লারিজানি হত্যার বদলা নিতে তারা অত্যাধুনিক প্রযুক্তির গুচ্ছ বোমা সমৃদ্ধ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করছে, যা আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ফাঁকি দিতে সক্ষম। যদিও ইসরাইলি সামরিক বাহিনী দাবি করেছে যে তারা উত্তর দিকে একটি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করতে পেরেছে, তবে মধ্যাঞ্চলে আঘাত হানা ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর ধ্বংসলীলা ঠেকাতে তারা ব্যর্থ হয়েছে। এখন পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট কোনো হতাহতের সংখ্যা প্রকাশ না করলেও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অনেক বেশি বলে ধারণা করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, গত সোমবার (১৬ মার্চ) ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের সচিব ও বর্ষীয়ান নেতা আলী লারিজানিকে গুপ্তহত্যা করে ইসরাইল। একই দিনে বাসিজ বাহিনীর প্রধানকেও হত্যা করা হয়। পরে ইসরাইলি গোয়েন্দা সংস্থাগুলো নিরাপত্তা কাউন্সিলের দ্বিতীয় শীর্ষ ব্যক্তিকেও হত্যার দাবি করে। এই ধারাবাহিক হত্যাকাণ্ডের পর ইরান সরাসরি যুদ্ধের ঘোষণা দিয়ে ইসরাইলি ভূখণ্ডে আক্রমণ শুরু করে। তেহরান স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, তাদের শীর্ষ নেতাদের রক্তের বদলা নিতে ইসরাইলের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ শহরকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে। মধ্যপ্রাচ্যের এই ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা বিশ্বজুড়ে নতুন এক যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি করেছে।
টিএইচএ/
