জাতীয় নির্বাচনের পর এই প্রথম গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক ও দাপ্তরিক সফরে বরিশাল যাচ্ছেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আগামী ১৩ জুলাই এই সফর অনুষ্ঠিত হবে। সফরকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গৌরনদীর কসবায় সেনাবাহিনীর একটি অস্থায়ী ক্যাম্পে বার্ষিক গ্রীষ্মকালীন মহড়া পরিদর্শন করবেন। এর পাশাপাশি বিভাগীয় শহর বরিশালে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি এবং স্থানীয় দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক সভায় অংশ নেবেন তিনি।
আজ মঙ্গলবার বিকেলে সংবাদমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও বরিশাল জেলা পরিষদ প্রশাসক আকন কুদ্দুসুর রহমান।
সফরসূচির বিস্তারিত জানিয়ে আকন কুদ্দুসুর রহমান বলেন, আগামী ১৩ জুলাই সকাল ৯টায় ঢাকা থেকে সড়কপথে বরিশালের উদ্দেশে রওনা দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গৌরনদীর কসবায় সেনাবাহিনীর অস্থায়ী ক্যাম্পে গ্রীষ্মকালীন মহড়া পরিদর্শন শেষে তিনি সরাসরি বরিশাল বিভাগীয় মূল নগরে প্রবেশ করবেন। বরিশালে এসে তিনি পরিবেশ সুরক্ষায় একটি বিশেষ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। নগরের বেলসপার্ক, লেক কিংবা গ্র্যান্ড পার্কের আশপাশের যেকোনো একটি সুবিধাজনক এলাকায় এই সবুজায়ন কর্মসূচি সম্পন্ন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এরপর দুপুরের পর বরিশাল জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে বরিশাল নগর, জেলা দক্ষিণ ও উত্তর বিএনপি এবং সকল অঙ্গসংগঠনের শীর্ষ নেতাদের নিয়ে যৌথ সাংগঠনিক সভা করবেন প্রধানমন্ত্রী। এই সাংগঠনিক সভাটি সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করার জন্য ইতিমধ্যেই স্থানীয়ভাবে জোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
এ বিষয়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন জানান, গৌরনদীতে সেনা ক্যাম্প পরিদর্শনের পর বিকেলে দলীয় কর্মীসভায় জেলা ও মহানগরের মাঠপর্যায়ের কর্মীদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বর্তমান বর্ষা মৌসুম ও বৃষ্টির কথা বিবেচনা করে উন্মুক্ত স্থানের পরিবর্তে ইনডোরে বা শিল্পকলা একাডেমির ভেতরে এই সভার আয়োজন করা হচ্ছে। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে স্থানীয় আলেম-ওলামা ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে একটি বিশেষ মতবিনিময়ের কথাও রয়েছে।
বরিশালের সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা ও আঞ্চলিক উন্নয়ন প্রসঙ্গে বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন বলেন, বরিশালে ৬ লেনের আধুনিক সড়ক, দীর্ঘ প্রতীক্ষিত রেললাইন স্থাপন, বরিশাল-ভোলা মেঘনা সেতু নির্মাণ, পাইপলাইনের মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহ এবং একটি আধুনিক ইপিজেড বা অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা—এসব গণদাবির কথা প্রধানমন্ত্রী আগে থেকেই খুব ভালো করে জানেন। এরপরও বরিশালের জনগণের এই যৌক্তিক ও প্রাণবন্ত প্রত্যাশার কথাগুলো সফরের সুযোগ অনুযায়ী পুনরায় তাঁর সামনে আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে ধরা হবে। অন্যদিকে, জাতীয় নির্বাচনের পর সরকারপ্রধানের দায়িত্ব নেওয়ার পর তারেক রহমানের প্রথম বরিশাল সফরের খবরে স্থানীয় সর্বস্তরের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক উচ্ছ্বাস ও উদ্দীপনা ছড়িয়ে পড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দলীয় নেতাকর্মীদের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানিয়ে নিরন্তর শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানানো হচ্ছে।
টিএইচএ/
