৩৬ নিউজ ডেস্ক: ভারতের উজান থেকে তীব্র বেগে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল এবং গত কয়েক দিনের অবিরাম বর্ষণে ফেনীর প্রধান নদীগুলোর পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি পৌঁছেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং দ্রুত বঙ্গোপসাগরে পানি নিষ্কাশনের লক্ষ্যে সোনাগাজীতে অবস্থিত দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম ‘মুহুরী সেচ প্রকল্প’-এর ৪০টি জলকপাট (গেট) একসাথে খুলে দেওয়া হয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা যায়, ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল মুহুরী, কহুয়া ও সিলোনিয়া নদী হয়ে তীব্র বেগে বঙ্গোপসাগরের দিকে ধাবিত হচ্ছে। অতিরিক্ত পানির চাপ সামলাতে এবং লোকালয় প্লাবিত হওয়া থেকে রক্ষা করতে প্রকল্পের ৪০টি গেটই সার্বক্ষণিক খোলা রেখে সাগরে পানি নিষ্কাশন করা হচ্ছে। ফলে ফেনী নদীর পানির স্তর এখন পর্যন্ত তুলনামূলক স্বাভাবিক অবস্থায় ধরে রাখা সম্ভব হয়েছে।
পাউবো কর্তৃপক্ষ জানায়, সামুদ্রিক জোয়ারের সময় সাগর থেকে উল্টো পথে নদী ও লোকালয়ে পানি প্রবেশ ঠেকাতে নিয়ম অনুযায়ী প্রতিদিন গড়ে দুইবার প্রায় দুই ঘণ্টা করে গেটগুলো সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। তবে জোয়ারের সময়টুকু ছাড়া সারাদিনই সবকটি গেট খোলা রেখে নিরবচ্ছিন্ন পানি নিষ্কাশন কার্যক্রম সচল রাখা হয়েছে।
ফেনী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মনিরুল ইসলাম জানান, উজান থেকে নেমে আসা পানির চাপ অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পাওয়ায় সবগুলো গেট একসঙ্গে খুলে দেওয়া হয়েছে। জোয়ারের সময় ছাড়া দিন-রাত অবিরাম পানি সাগরে গিয়ে পড়ছে। পাউবোর টিম সার্বিক পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখেছে।
উল্লেখ্য, ১৯৭৭-৭৮ অর্থবছরে কাজ শুরু হয়ে ১৯৮৫-৮৬ অর্থবছরে নির্মাণ শেষ হওয়া দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম এই মুহুরী সেচ প্রকল্পটিতে অর্থায়ন করেছিল সিডা, ইইসি ও বিশ্বব্যাংক। ফেনী সদর, ছাগলনাইয়া, পরশুরাম, ফুলগাজী, সোনাগাজী এবং চট্টগ্রামের মিরসরাই এলাকায় বর্ষায় বন্যার প্রকোপ হ্রাস করা এবং শুষ্ক মৌসুমে সেচ সুবিধা দেওয়াই এই বিশালাকার প্রকল্পের মূল লক্ষ্য। বর্তমানে এর মাধ্যমে সরাসরি ও সম্পূরক মিলে প্রায় ৪৭ হাজার তিনশো হেক্টরেরও বেশি জমিতে কৃষিকাজ পরিচালনা সম্ভব হচ্ছে।
টিএইচএ/
