গাজার ধ্বংসযজ্ঞ দেখতে ভালই লাগে: ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী

by Abid vs36

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: গাজাজুড়ে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ দেখে নিজের মনে ‘ভালো অনুভূতি’ হচ্ছে বলে এক বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ। ফিলিস্তিনিদের অবরুদ্ধ এই ভূখণ্ডের ধ্বংসস্তূপের দিকে তাকিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘একটি ভালো অনুভূতি, তাই নয় কি?’ ফিলিস্তিনিদের তরফ থেকে আসা হুমকি চিরতরে দূর করার লক্ষ্যে ইসরায়েলি বাহিনীর গ্রহণ করা একটি ‘পরিকল্পিত নীতির’ সফল বাস্তবায়ন হিসেবে এই ধ্বংসযজ্ঞকে অভিহিত করেছেন তিনি।

গত সোমবার গাজার উত্তরাঞ্চলে ইসরায়েলি বাহিনীর একটি সামরিক সীমান্ত এলাকা পরিদর্শনকালে প্রতিরক্ষামন্ত্রী এই মন্তব্য করেন। একই দিনে ইসরায়েলের স্থানীয় সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১৪-তে তার এই বক্তব্যটি সরাসরি সম্প্রচার করা হয়। এই সফরকালে কাৎজ গাজায় সামরিক বাহিনীর নিয়ন্ত্রাধীনে নতুন তিনটি ইহুদি বসতি স্থাপনের একটি বিতর্কিত রূপরেখাও আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন।

বিজ্ঞাপন
banner

পরিদর্শনকালে সামরিক কৌশলের আমূল পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করে কাৎজ দাবি করেন, গাজা নিয়ে ইসরায়েল তার আগের সামরিক নীতি থেকে পুরোপুরি বেরিয়ে এসেছে। আগে ইসরায়েলি সেনারা গাজার ভেতরে সাময়িকভাবে প্রবেশ করে আক্রমণ চালিয়ে দ্রুত বাইরে বেরিয়ে আসত। কিন্তু এখন সেই কৌশলে পরিবর্তন এনে গাজায় স্থায়ী অবস্থান নেওয়ার নীতি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর ফলে ফিলিস্তিনি যোদ্ধাদের এলাকা থেকে বের করে দিয়ে তাদের বসতবাড়ি সম্পূর্ণ মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং ইসরায়েলি বাহিনী প্রতিনিয়ত গাজার ভেতরে অবস্থান করছে।

ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১৪-এর প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে জানা যায়, প্রতিরক্ষামন্ত্রীর এই সফরের সবচেয়ে দূরদর্শী ও আশঙ্কাজনক দিক ছিল গাজার উত্তরাঞ্চলে স্থায়ীভাবে ইহুদি অধিপত্য নিশ্চিত করার পরিকল্পনা। কাৎজ স্পষ্ট ভাষায় জানান, ২০০৫ সালে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চাপের মুখে গাজা থেকে সরে আসা সেনা ও বসতিগুলোর পুরোনো অবস্থানগুলোতে তারা পুনরায় ফিরে যাবেন। সেই লক্ষ্যেই আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে সেখানে তিনটি ‘নাহাল’ আউটপোস্ট বা নতুন সামরিক বসতি স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ডের তথ্য অনুযায়ী, ‘নাহাল আউটপোস্ট’ মূলত ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর এক বিশেষ ধরনের ক্যাম্প ও বসতি স্থাপনকারী ব্যবস্থা। এর অধীনে সেনাবাহিনীর প্রত্যক্ষ নিয়ন্ত্রণে নতুন ভূমি দখল করে প্রাথমিক সামরিক ঘাঁটি তৈরি করা হয়, যা পরবর্তীতে পূর্ণাঙ্গ বেসামরিক ইহুদি সম্প্রদায়ে রূপান্তরিত হয়। কাৎজ এই জমি দখলকে ইসরায়েলের নিরাপত্তা বৃদ্ধি ও তাদের সীমান্ত সুরক্ষার জন্য অত্যন্ত অপরিহার্য উদ্যোগ বলে দাবি করেন।

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় টানা চলা ইসরায়েলি বাহিনীর সামরিক অভিযানে এ পর্যন্ত ৭৩ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের বড় অংশই নিরীহ নারী ও শিশু। এছাড়া ইসরায়েলি হামলায় মারাত্মক আহত ও পঙ্গু হয়েছেন ১ লাখ ৭৩ হাজারেরও বেশি মানুষ। নির্বিচার হামলায় পুরো গাজা উপত্যকা এখন এক বিরাট ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে এবং বেশিরভাগ অধিবাসী জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত হয়ে চরম মানবিক সংকটে দিন কাটাচ্ছেন।

টিএইচএ/

এ জাতীয় আরো সংবাদ

প্রকাশক: আবু সায়েম খালেদ
পরিচালক: এইচ. এম. মুহিউদ্দিন খান
আসকান টাওয়ার, ৬ষ্ঠ তলা, ১৭৪ ধোলাইপাড়
যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪
ইমেইল: info@36news24.com
ফোন: 01401 400222