বিশেষ প্রতিবেদক:: ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট। বাংলাদেশের ইতিহাসে এক চিরস্মরণীয় ও নজিরবিহীন দিন। ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে তৎকালীন স্বৈরাচারী সরকারের পতনের পর, দেশের ক্রান্তিলগ্নে পরবর্তী রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা ও অন্তর্বর্তীকালীন রূপরেখা ঠিক করতে রাষ্ট্রপতি ভবন বঙ্গভবনে এক জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
দেশের শীর্ষ রাজনৈতিক নেতৃত্ব, সুশীল সমাজ ও সেনা প্রধানের উপস্থিতিতে আয়োজিত সেই ঐতিহাসিক বৈঠকের একটি বিশেষ দৃশ্য আজ ইতিহাসের পাতায় অনন্য স্থান করে নিয়েছে।
প্রথা ভাঙার সেই মুহূর্তসাধারণত যেকোনো রাষ্ট্রীয় বা জাতীয় শোক ও শ্রদ্ধাজ্ঞাপনের মুহূর্তে এক মিনিট নীরবতা পালনের প্রথা অনুসৃত হয়ে আসছে। ৫ আগস্ট রাতেও বঙ্গভবনে আন্দোলনের বীর শহীদদের স্মরণে তেমনই এক মিনিট নীরবতা পালনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল।
কিন্তু সেই মুহূর্তে ঐতিহাসিক প্রথা ভেঙে এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমীর, মুফতী সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম (শায়েখে চরমোনাই)।
তিনি উপস্থিত সবাইকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ইসলামী দৃষ্টিভঙ্গিতে কেবল নীরবতা পালনের চেয়ে শহীদদের আত্মার মাগফিরাতের জন্য সরাসরি দোয়া ও কুরআন তিলওয়াতই অধিক ফলপ্রসূ ও সওয়াবের কাজ। তার এই যুক্তিপূর্ণ প্রস্তাবের পর বঙ্গভবনের চিরাচরিত রাষ্ট্রীয় নীরবতা পালনের সংস্কৃতি মুহূর্তে পরিবর্তিত হয় এক রুহানি আবহে।কুরআন তিলওয়াত ও সর্বজনীন মোনাজাতশায়েখে চরমোনাইয়ের নিজ উদ্যোগে বঙ্গভবনের সেদিনের বৈঠকে উপস্থিত সকলে মিলে শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনায় একবার সূরা আল-ফাতিহা এবং তিনবার সূরা আল-ইখলাস তিলওয়াত করেন।
তিলওয়াত শেষে সেনা প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানসহ উপস্থিত শীর্ষ রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ হাত তুলে দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেন।
সেদিনের সেই মোনাজাতে আন্দোলন চলাকালে প্রাণ হারানো বীর ছাত্র-জনতার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত, আহতদের দ্রুত সুস্থতা এবং দেশের সার্বিক শান্তি, শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার জন্য মহান আল্লাহর দরবারে আকুল প্রার্থনা করা হয়।ইতিহাসের নতুন অধ্যায়রাষ্ট্রীয় প্রোটোকল ও পশ্চিমা সংস্কৃতির নীরবতা পালনের প্রথা টপকে বঙ্গভবনের মতো সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় ভবনে কুরআন তিলওয়াত ও মোনাজাতের এই ঘটনাটি দেশজুড়ে ব্যপক আলোড়ন সৃষ্টি করে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ৫ আগস্টের বঙ্গভবনের ঘটনাটি কেবল একটি ধর্মীয় অনুভূতির বহিঃপ্রকাশ ছিল না; বরং তা ছিল হাজারো শহীদদের ত্যাগের প্রতি সম্মান জানানোর এক মৌলিক ও প্রাতিষ্ঠানিক পরিবর্তনের রূপরেখা।এক মিনিট নীরবতার পরিবর্তে মোনাজাতের মাধ্যমে দেশ ও শহীদদের স্মরণ করার এই সিদ্ধান্তটি বঙ্গভবনের ইতিহাসের পাতায় একটি নতুন ও স্মরণীয় অধ্যায় হিসেবে যুক্ত হয়ে থাকবে।
