পবিত্র রমজান মাসজুড়ে বগুড়া শহরের দত্তবাড়ি এলাকায় শহীদ জিয়াউর রহমান শিশু হাসপাতাল প্রাঙ্গণে প্রতিদিন ইফতারির আয়োজন করা হচ্ছে। ইফতারের আগে দল বেঁধে সেখানে প্রবেশ করেন রোজাদাররা। ভেতরে শরবত, খেজুর, খিচুড়িসহ নানা পদের খাবার থালায় সাজিয়ে পরিবেশন করা হয়।
প্রতিদিন তিন শতাধিক মানুষ এখানে ইফতার করেন। আয়োজকদের দাবি, ২০২৪ সাল থেকে টানা প্রায় তিন বছর ধরে এ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে তারেক রহমান-এর পৃষ্ঠপোষকতায়। তার উদ্যোগে প্রতিদিন নিম্নআয়ের মানুষের জন্য এ ইফতার আয়োজন করা হচ্ছে।
ইফতারে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে রয়েছেন রিকশা ও ভ্যানচালক, দিনমজুর, খেটে খাওয়া শ্রমিক, সিএনজিচালক, ভিক্ষুকসহ সমাজের বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ। ইফতার শুরুর প্রায় ১৫ মিনিট আগে থেকেই তারা এসে সারিবদ্ধভাবে বসেন। পুরুষ ও নারীদের জন্য আলাদা বসার ব্যবস্থা রয়েছে। ইফতার শেষে নামাজ আদায়ের জন্যও পৃথক ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
অটোরিকশাচালক মাহিদুল ইসলাম বলেন, “তিন বছর ধরে এখানে নিয়মিত ইফতার করছি। সারাদিন রোজা রেখে গাড়ি চালানোর পর এখানে এসে ভালোভাবে ইফতার করতে পারি।”
ফেরি করে কসমেটিক বিক্রেতা মাহফুজুল মিয়া বলেন, “যেদিন সুযোগ পাই এখানে ইফতার করি। বাইরে ইফতার কিনতে ৭০-৮০ টাকা লাগে, এখানে তা লাগে না। ইফতার করে নামাজ পড়ে চলে যাই।”
দিনমজুর জোব্বার আলী জানান, পাশের এলাকায় কাজ করেন এবং ইফতারের খরচ বাঁচাতে এখানে আসেন। ভিক্ষুক রাবেয়া বেগমও জানান, আয়োজনের কথা শুনে তিনি নিয়মিত ইফতারে অংশ নেন।
মাসব্যাপী ইফতার কার্যক্রম তদারকি করছেন জেলা বিএনপি সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা। তিনি বলেন, তারেক রহমান গণমানুষের নেতা। প্রবাসে থাকাকালীন সময় থেকেই তিনি এ উদ্যোগ নেন, যা এখনো অব্যাহত রয়েছে।
বগুড়া প্রেস ক্লাব-এর সাধারণ সম্পাদক ও বিএনপি মিডিয়া সেলের রংপুর ও রাজশাহী বিভাগীয় সমন্বয়ক কালাম আজাদ বলেন, বিএনপি সবসময় অবহেলিত মানুষের পাশে দাঁড়ায়। ২০২৪ সালে লন্ডন থেকে তারেক রহমান এ কার্যক্রম শুরু করেন এবং তা ধারাবাহিকভাবে চলছে।
শহীদ জিয়াউর রহমান শিশু হাসপাতালের সদস্য সচিব সৈয়দ আমিনুল হক দেওয়ান সজল জানান, ২০২৪ সালে তারেক রহমানের নির্দেশনায় এ ইফতার কর্মসূচি শুরু হয়। প্রতিদিন তিন শতাধিক নারী-পুরুষ এতে অংশ নেন এবং আয়োজনে তারেক রহমানের পৃষ্ঠপোষকতা রয়েছে।
এমএআর/
