আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ কাবুলের একটি মাদক পুনর্বাসন কেন্দ্রে পাকিস্তানের সাম্প্রতিক বিমান হামলার কঠোর নিন্দা জানিয়েছে। সংস্থার বক্তব্যে বলা হয়েছে, এই হামলা অবৈধ এবং এটি যুদ্ধাপরাধের পর্যায়েও পড়তে পারে।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচের তথ্য অনুযায়ী, ১৬ মার্চ পূর্ব কাবুলের সাবেক ক্যাম্প ফিনিক্স কমপ্লেক্সের ভেতরে অবস্থিত ওমিদ মাদক পুনর্বাসন কেন্দ্র–কে লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়। এতে অন্তত ১৪৩ জন নিহত এবং আরও ২৫০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। আহত ও নিহতদের অধিকাংশই চিকিৎসাধীন রোগী ছিলেন।
সংস্থার এশিয়া বিভাগের জ্যেষ্ঠ সহযোগী পরিচালক প্যাট্রিসিয়া গসম্যান বলেন, “প্রমাণগুলো নির্দেশ করছে, কাবুলের সুপরিচিত একটি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বিমান হামলা চালানো হয়েছে, যা সম্পূর্ণভাবে অবৈধ।” তিনি আরও বলেন, এই স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করার কারণ ও দায়ীদের নির্ধারণের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের।
পুনর্বাসন কেন্দ্রের এক কর্মী হিউম্যান রাইটস ওয়াচকে জানিয়েছেন, হামলায় তিনটি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার মধ্যে ছিল ডাইনিং হল, রোগীদের আবাসিক ভবন এবং প্রহরী চৌকি। হামলার সময় কেন্দ্রে এক হাজারের বেশি রোগী ছিলেন, যারা রমজানে একত্র হয়ে ইফতার করতে প্রস্তুত ছিলেন।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচ স্যাটেলাইট চিত্র এবং দৃশ্যমান প্রমাণ বিশ্লেষণ করে জানিয়েছে, পুরো কমপ্লেক্সজুড়ে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের চিত্র দেখা গেছে। একাধিক স্থাপনা পুরোপুরি ধ্বংস বা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সংস্থার দাবি, এই কেন্দ্রে সামরিক কার্যক্রমের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের আওতায় চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিশেষ সুরক্ষা প্রদান করা হয়। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ জোর দিয়ে বলেছে, যেখানে বেসামরিক ও সামরিক লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে পার্থক্য করা হয় না বা বেসামরিকদের ওপর অযথা ক্ষতি হয়, তা যুদ্ধ আইন লঙ্ঘনের গুরুতর ঘটনা হিসেবে গণ্য হবে।
সংস্থা পাকিস্তানের প্রতি দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে এবং প্রমাণ মিললে দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে। সূত্র: আরিয়ানা নিউজ
অনুবাদ: আমানুল্লাহ নাবিল
হাআমা/
