জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের নিষেধাজ্ঞা কমিটি ইমারাতে ইসলামিয়া আফগানিস্তানের চার শীর্ষ কর্মকর্তার তথ্য হালনাগাদ করেছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বর্তমানে জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।
জাতিসংঘের প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়, এসব কর্মকর্তার পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য ও সরকারি নথিপত্র সংশোধন ও পূর্ণাঙ্গ করা হয়েছে। সংশোধিত তালিকায় রয়েছেন ইমারাতে ইসলামিয়ার প্রধানমন্ত্রী মোল্লা মোহাম্মদ হাসান আখুন্দ, অর্থনৈতিক উপ-প্রধানমন্ত্রী মোল্লা আবদুল গনি বরাদর, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি এবং খনিজ ও পেট্রোলিয়ামমন্ত্রী হেদায়াতুল্লাহ বদরি।
জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা কার্যদলের বিবৃতিতে বলা হয়, ১৩ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে ১৯৮৮ নম্বর প্রস্তাবের আওতায় গঠিত কার্যদল তাদের নিষেধাজ্ঞা তালিকায় সংশোধনী এনেছে। এতে কয়েকজন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের তথ্য পরিবর্তন ও সংশোধন করা হয়। এ তালিকায় সম্পদ জব্দ, ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা এবং অস্ত্র নিষেধাজ্ঞার মতো পদক্ষেপ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, নিরাপত্তা পরিষদের ২৮১৬ নম্বর প্রস্তাব এবং জাতিসংঘ সনদের সপ্তম অধ্যায়ের আওতায় এসব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
শিক্ষাবিদের মন্তব্য: ‘চাপ প্রয়োগের কৌশল’
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মোহাম্মদ আসলাম দানেশমাল বলেন, আন্তর্জাতিক মহল এই নিষেধাজ্ঞা তালিকাকে ইমারাতে ইসলামিয়ার ওপর চাপ প্রয়োগের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে।
তিনি বলেন, “বিশ্ববাসী চায় ইমারাতে ইসলামিয়ার নেতাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে, যাতে তারা তাদের দাবির প্রতি মনোযোগ দেয় এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের শর্তগুলো মানতে বাধ্য হয়।”
মুখপাত্রের প্রতিক্রিয়া: ‘ফলহীন পদক্ষেপ’
জাতিসংঘের এই পদক্ষেপের প্রতিক্রিয়ায় ইমারাতে ইসলামিয়ার মুখপাত্র জবিহুল্লাহ মুজাহিদ বলেছেন, নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে কোনো লাভ হয়নি।
তিনি বলেন, “এটি আফগানদের বিরুদ্ধে একটি ফলহীন পদক্ষেপ। এটি জুলুম এবং তাদের অধিকার ক্ষুণ্ন করার শামিল। কোনো প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ দায়িত্বশীল ব্যক্তি নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকলে পুরো প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়।”
মুজাহিদ আরও বলেন, ইমারাতে ইসলামিয়া পারস্পরিক বোঝাপড়ার পথ খুলে দিতে চায় এবং আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান চায়।
রাশিয়ার স্বীকৃতিকে ‘সাহসী’ বললেন রাষ্ট্রদূত
এদিকে রাশিয়ায় ইমারাতে ইসলামিয়ার রাষ্ট্রদূত গুল হাসান হাসান মস্কোর ইমারাতে ইসলামিয়াকে স্বীকৃতি দেওয়ার পদক্ষেপকে ‘সাহসী সিদ্ধান্ত’ বলে মন্তব্য করেছেন।
তিনি বলেন, এই স্বীকৃতির ফলে কাবুল ও মস্কোর মধ্যে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক আরও সহজ ও বৈধ কাঠামোর মধ্যে এসেছে।
এক রুশ গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জাতিসংঘে ইমারাতে ইসলামিয়ার প্রতিনিধি না থাকার বিষয়েও সমালোচনা করেন।
রাষ্ট্রদূত জানান, আফগানিস্তানে জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা বিশেষ করে ইউনামা কার্যক্রম পরিচালনা করছে এবং নিয়মিত আলোচনাও হচ্ছে। এ প্রেক্ষাপটে তিনি নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যদের কাছে আহ্বান জানান, জাতিসংঘে আফগানিস্তানের আসন ইমারাতে ইসলামিয়ার প্রতিনিধিকে দেওয়া হোক।
বিশ্লেষকদের মত: ‘আসন দিলে সমাধান সম্ভব’
রাজনৈতিক বিশ্লেষক গুল মোহাম্মদ মোহাম্মদি বলেন, আফগানিস্তানের জাতিসংঘ আসন ইমারাতে ইসলামিয়ার কাছে হস্তান্তর করা হলে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও কাবুলের মধ্যে থাকা অনেক জটিলতা নিরসন হতে পারে।
নিষেধাজ্ঞার তালিকায় ২২ কর্মকর্তা
উল্লেখ্য, এর আগে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ ইমারাতে ইসলামিয়ার ২২ জন কর্মকর্তাকে নিষেধাজ্ঞার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছিল। এতে সম্পদ জব্দ, ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা এবং অস্ত্র নিষেধাজ্ঞার মতো বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। সূত্র: টোলো নিউজ
হাআমা/
