বহুপ্রতীক্ষিত নবম পে স্কেলের সুপারিশ চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে আজ বৈঠকে বসছে পুনর্গঠিত সচিব কমিটি। বুধবার সকাল সাড়ে ৯টায় সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির সভাপতিত্বে এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। আজকের বৈঠকেই সচিব কমিটির পক্ষ থেকে তৈরি করা প্রস্তাবিত সুপারিশমালা চূড়ান্ত অনুমোদন পেতে পারে বলে জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, নতুন কাঠামোর প্রথম থেকে ১০ম গ্রেডের সরকারি কর্মকর্তাদের মূল বেতন ১০০ শতাংশ এবং ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের বেতন সর্বোচ্চ ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে। কোনো কারণে যদি আজকের সভায় সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে আসা সম্ভব না হয়, তবে পরবর্তী বৈঠকে প্রস্তাবনাটি চূড়ান্ত করে পরবর্তী অনুমোদনের জন্য সরাসরি মন্ত্রিসভার টেবিলে পাঠানো হবে।
যদিও সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী চলতি জুলাই মাস থেকেই নতুন কাঠামো কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে, তবুও কিছু জটিলতার কারণে সময়মতো গেজেট প্রকাশ পেছাচ্ছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বেতন কমিশনের চূড়ান্ত সুপারিশ, সরকারের বর্তমান আর্থিক সামর্থ্য, বার্ষিক ইনক্রিমেন্টের প্রভাব ও সামগ্রিক ভাতা কাঠামো সমন্বয় করার কারণেই মূল জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে। অর্থ বিভাগ ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সূত্রমতে, নতুন স্কেলের মূল বেতনের পুরো অর্থ চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকেই পরিশোধ করবে সরকার, তবে ভাতাগুলো আগামী অর্থবছরে দুই ধাপে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। নতুন স্কেল কার্যকর হওয়ার সাথে সাথেই বর্তমানে প্রচলিত ২ থেকে ৩ হাজার টাকার অন্তর্বর্তীকালীন বিশেষ সুবিধাটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে রদ হবে।
নতুন প্রস্তাবনায় সাধারণ ৫ শতাংশ ইনক্রিমেন্টের নিয়মেও বড় পরিবর্তন আনা হচ্ছে। নতুন সুপারিশে নিম্ন ও মধ্যম গ্রেডের কর্মীদের বেশি সুবিধা দেওয়া হয়েছে। খসড়া অনুযায়ী ৬ষ্ঠ থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত ৫ শতাংশ ইনক্রিমেন্ট বহাল রাখা হলেও ৫ম গ্রেডে ৪ শতাংশ, ৩য় ও ৪র্থ গ্রেডে ৩.৫ শতাংশ এবং ২য় গ্রেডে তা ২.৭৫ শতাংশ প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রথম গ্রেডের ইনক্রিমেন্ট পৃথকভাবে মূল্যায়নের আলোচনা চলছে। একইসঙ্গে চিকিৎসা ভাতা কিছুটা কমিয়ে ৩ হাজার টাকা করা হচ্ছে এবং সন্তানদের জন্য মাসিক শিক্ষা ভাতা ধরা হচ্ছে ১ হাজার ৫০০ টাকা।
টিএইচএ/
