আব্দুল্লাহ কাসিম আজওয়াদ >>
বিশ্ববিখ্যাত মদিনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের হাদিস বিভাগে শিক্ষকতার গৌরব অর্জন করেছেন বাংলাদেশের তরুণ আলেম রাজধানীর জামিয়া আরাবিয়া ইমদাদুল উলুম ফরিদাবাদ মাদরাসার শিক্ষার্থী মাওলানা শারীফ আহমাদ আল মাদানী।
শনিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) ৩৬ নিউজকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন ঢাকার জামিয়া আরাবিয়া ইমদাদুল উলূম ফরিদাবাদ মাদরাসার মুহতামিম শাইখুল হাদিস আল্লামা আব্দুল কুদ্দুসের ছেলে ও অত্র মাদরাসার শিক্ষক মুফতি মানজুর হাসান যুবায়ের।
তিনি জানান, মাওলানা শরীফ আহমাদ ২০১০-১১ শিক্ষাবর্ষে ফরিদাবাদ মাদরাসা থেকে দাওরায়ে হাদিস সম্পন্ন করেন। অত্যন্ত ভদ্র ও মেধাবী এই ছাত্রের প্রতি সব উস্তাদদের বিশেষ দোয়া ছিল। এ সংবাদে মাদরাসার আসাতিজাগণ অত্যন্ত আনন্দিত হয়ে তাঁর জন্য দোয়া ও অভিনন্দন জানিয়েছেন।
এর আগে গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে আরও দুইজন বাংলাদেশি আলেমকে খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেয় মদিনা বিশ্ববিদ্যালয়।
শায়খ শারীফ আহমাদ হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর উপজেলার আন্দিউড়া গ্রামের সন্তান। ২০১২ সালের সেপ্টেম্বরে তিনি উচ্চশিক্ষার জন্য সৌদি আরবে যান। মদিনা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে প্রথমে আরবি ভাষা বিভাগ থেকে ডিপ্লোমা, পরে হাদিস বিভাগ থেকে অনার্স, মাস্টার্স ও এমফিল সম্পন্ন করেন। বর্তমানে তিনি একই বিভাগে পিএইচডি গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন।
তাঁর এমফিল গবেষণার শিরোনাম ছিল—
“الأحاديث الزائدة في كتاب فتح الغفار للرباعي على كتاب منتقى الأخبار للمجد ابن تيمية – من بداية كتاب إحياء الموات إلى نهاية كتاب العتق”
এই গবেষণাপত্রে পরীক্ষক হিসেবে ছিলেন মসজিদে কুবার খতিব প্রফেসর ড. মুহাম্মদ বিন বাখিত আল হুজাইলি ও মদিনা বিশ্ববিদ্যালয়ের হাদিস বিভাগের সাবেক ডীন প্রফেসর ড. আব্দুল্লাহ বিন আব্দুল আজিজ আল ফালেহ। তত্ত্বাবধায়ক ছিলেন ড. আব্দুল্লাহ বিন সালেম আল আহমাদী। গবেষণাপত্রটি ৯৭% নাম্বারসহ গৃহীত হয়।
এছাড়া তিনি দীর্ঘ ১২ বছর ধরে মসজিদে নববী একাডেমিতে শিক্ষক, পরীক্ষক ও শিক্ষক প্রশিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
বাংলাদেশে অধ্যয়ন জীবনে তিনি ফরিদাবাদ মাদরাসা থেকে দাওরা হাদিস ও ইফতা সম্পন্ন করেন এবং আলিয়া মাদরাসা থেকে দাখিল, আলিম ও ফাজিল সম্পন্ন করেন। ২০১০-১১ সালের বেফাকের কেন্দ্রীয় পরীক্ষায় দাওরা হাদিসে মুমতাজ সহ সারাদেশে মেধাতালিকায় ১৬তম স্থান অর্জন করেন। এছাড়া ২০০৯ সালের দাখিল ও ২০১১ সালের আলিম পরীক্ষায় জিপিএ-৫ লাভ করেন।
মদিনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো মর্যাদাপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে হাদিস বিভাগের শিক্ষক হওয়া শুধু একজন ব্যক্তির জন্য সম্মানের নয়, বরং বাংলাদেশের জন্যও বিরাট অর্জন। তাঁর এ কৃতিত্ব প্রমাণ করে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরাও বিশ্বমানের গবেষণা ও জ্ঞানে নেতৃত্ব দিতে সক্ষম। নিঃসন্দেহে এটি দেশের তরুণ প্রজন্মের জন্য এক বিশাল অনুপ্রেরণা।
হাআমা/
