আফগানিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি বলেছেন, পাকিস্তানের যেকোনো আগ্রাসনের বিরুদ্ধে নিজের ভূখণ্ড রক্ষা করা আফগানিস্তানের বৈধ অধিকার। কাবুলে বিদেশি কূটনীতিক, জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন।
বৈঠকে আফগানিস্তানের বর্তমান সরকার ইমারাতে ইসলামিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী পাকিস্তানের সামরিক হামলার তীব্র নিন্দা জানান এবং বলেন, আফগান ভূখণ্ডে এ ধরনের হামলা গ্রহণযোগ্য নয়।
বক্তব্যে তিনি বলেন, ইমারাতে ইসলামিয়া সবসময় বোঝাপড়া, সংলাপ ও পারস্পরিক সম্মানের মাধ্যমে সমস্যার সমাধানে বিশ্বাস করে। তবে কোনো ধরনের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে দেশের সার্বভৌমত্ব ও ভূখণ্ড রক্ষা করা আফগানিস্তানের অধিকার।
আমির খান মুত্তাকি বলেন, “আমরা একটি চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধের মুখোমুখি হয়েছি। আমাদের প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপগুলো অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পরিচালিত হচ্ছে এবং আমাদের লক্ষ্যবস্তু কেবল সামরিক স্থাপনা। যেসব কেন্দ্র থেকে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে, সেগুলোকেই লক্ষ্য করে আমাদের অভিযান চালানো হচ্ছে।”
বক্তব্যের আরেক অংশে তিনি বলেন, পাকিস্তান তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে আফগান ভূখণ্ডে হামলা চালাচ্ছে। তার মতে, পাকিস্তানের জেনারেলরা নিজেদের অভ্যন্তরীণ সমস্যার সমাধান না করে বরং পুরো অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করে তুলছেন।
পাশাপাশি তিনি পাকিস্তানে আফগান অভিবাসীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার, বাণিজ্য ও ট্রানজিটে চাপ সৃষ্টি এবং আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলারও সমালোচনা করেন।
তিনি বলেন, “পাকিস্তানের সামরিক শাসনব্যবস্থা একটি ভুল ধারণার ওপর নির্ভর করছে যে তারা চাপ প্রয়োগ করে নিজেদের দাবি আদায় করতে পারবে। তারা নির্মমভাবে আফগান অভিবাসীদের পাকিস্তান থেকে বের করে দিচ্ছে, বাণিজ্য ও ট্রানজিট পথ বন্ধ করছে, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আফগান জনগণের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন প্রচারণা চালাচ্ছে এবং এমনকি আফগানিস্তানের সার্বভৌমত্বও লঙ্ঘন করেছে। আমি জোর দিয়ে বলছি, তাদের এই হিসাব-নিকাশ নতুন করে ভাবতে হবে।”
এদিকে আফগানিস্তানে কর্মরত নরওয়েজিয়ান শরণার্থী পরিষদ আফগানিস্তান–পাকিস্তান সংঘর্ষ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং কাবুল ও ইসলামাবাদকে উত্তেজনা কমানোর আহ্বান জানিয়েছে।
সংস্থাটির আফগানিস্তান কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান রবার্ট ইনজিকোয়া বলেন, “আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের সাম্প্রতিক সংঘর্ষ বাড়ার পর আফগানিস্তানের ভেতরে অনেক মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। আমরা গতকাল ওই এলাকায় উপস্থিত ছিলাম এবং গত কয়েক দিনে মানুষের প্রয়োজনগুলো মূল্যায়ন করেছি। পাশাপাশি আমরা জোরালোভাবে আহ্বান জানাই, এই সংঘর্ষ বন্ধ করা হোক। বেসামরিক মানুষকে লক্ষ্যবস্তু বানানো যাবে না।”
এ সময় আফগান পররাষ্ট্রমন্ত্রী আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের ওপর হামলা এবং ইরান ও কিছু উপসাগরীয় দেশের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধির ফলে আঞ্চলিক নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়েছে।
অনুবাদ : আমানুল্লাহ নাবিল মামদুহ
হাআমা/
